২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

ঘটমান সংবাদ এ স্বাগতম।  সাথেই থাকুন।
হোমঅন্যান্যকৃষিবন্যায় বড় ক্ষতি হবেনা, মোকাবেলার ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছেঃ কৃষিমন্ত্রী

বন্যায় বড় ক্ষতি হবেনা, মোকাবেলার ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছেঃ কৃষিমন্ত্রী

বন্যায় বড় ক্ষতি হবেনা, মোকাবেলার ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড . মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, এখন মাঠে বড় ধরনের কোন ফসল নেই। এ বন্যায় যতটুকু ক্ষতি হবে, সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেজন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে। ফলে বন্যায় বড় ক্ষতি হবেনা ।
রোববার (১৯ জুন) সকালে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে কৃষি তথ্য সার্ভিসের আয়োজনে ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি ও গণমাধ্যম’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি হবেনা। সারাদেশে খুব বেশি বীজতলা করা হয়নি এখনো। যা হয়েছে সেটাও নষ্ট হলে খুব সমস্যা হবে না। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বীজ সংরক্ষিত আছে, পরবর্তীতে সেগুলো চাষীদের দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আউশের ক্ষতি একটু বেশি হতে পারে। এখন ১৩ লক্ষ হেক্টর আউশের টার্গেট করেছিলাম, লাগানো হয়েছে ১১ লক্ষ হেক্টর। এর মধ্যে ২২ হাজার হেক্টর এখন পর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে বিভিন্ন শাকসবজি আছে, সেগুলোর কিছু ক্ষতি হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রবণ দেশ। এই মৌসুমির ফসলগুলো প্রায় সময় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সেভাবে প্রস্তুতি কৃষকও রাখে। আমরাও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সে ক্ষতি পূরণ করব।তারপরও যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা ধেঁয়ে আসছে, আকর্ষিক বড় ক্ষতি হবে কিনা সেটা জানিনা।
তিনি বলেন, এজন্য আমরা পর্যাপ্ত বরাদ্দ রেখেছি। যদি বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
এ সময় আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নানাবিধ সমস্যার কারণে এ দেশে বহুবার খাদ্য সংকটের নজির রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়ে কখনও খাদ্যের অভাব হয়নি। এমনকি খাদ্যের জন্য হাহাকার ও করতে দেখা যায়নি কখনো।
তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেটা এ দেশেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তারপরও আমরা পরিকল্পিত কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা করছি। কৃষি উৎপাদনে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য এ বছর ২৮ হাজার কোটি টাকা সারে ভর্তুকি দিয়েছি। যেটা অন্যান্য দেশও পারেনি। সেজন্য বিশ্ববাজারে সারের অস্বাভাবিক দাম বাড়লেও এদেশে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যামেরিটাস অধ্যাপক ও বাকৃবির সাবেক উপাচার্য এম. এ. সাত্তার মন্ডল। এসময় তিনি বলেন, গ্রামে এখন একটা নতুন অভিজাত ক্লাস গড়ে উঠছে। যাদের নিজের জমি আছে কি নাই সেটা মুখ্য নয়, কিন্তু তাদের আছে মেধা, দক্ষ কৃষি উদ্যোগ, পুঁজি ও বিদ্যা-বুদ্ধি। তারা তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান সমৃদ্ধ এবং আধুনিক কৃষির প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত। এ শ্রেণিটির প্রধান শক্তি হচ্ছে, আধুনিক কৃষি এবং ব্যবসায়িক কৃষি সম্পর্কে জ্ঞান। এদের প্রত্যেকেই লাভজনক কৃষি পণ্যের বাজারের দিকে একটা ঝোঁক সৃষ্টি হয়ে গেছে। তারা লাভের জন্য কৃষি করছেন, কৃষি ব্যবসা করছেন। দেশ বিদেশে কৃষি যেখান থেকে সম্ভব নতুন নতুন কৃষির ধারণা লাভ করছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দরকার প্রয়োজনমত ঋণ, কারিগরি সহায়তা ও আধুনিক কৃষি বিপণনব্যবস্থা। তবে কৃষি আরো এগিয়ে নিতে আমদানি কমাতে হবে। লবণ সহিঞ্চু জাত উদ্ভাবনে মনোযোগ আরো বাড়াতে হবে, স্মার্ট এগ্রিকালচার টেকনোলজি ব্যবহার করার তাগিদও দেন তিনি৷
কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, দৈনিক জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি গোলাম ইফতেখার মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড . সুরজিত সাহা রায়।
Print Friendly, PDF & Email

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

সর্বশেষ খবর

Recent Comments

Bengali BN English EN